নরওয়ে দেশের চমকপ্রদ তথ্য | Norway Unknown Facts
নরওয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিম অর্ধে অবস্থিত একটি উত্তর ইউরোপীয় দেশ। নরওয়ের পূর্বে সুইডেন, ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার সাথে স্থল সীমানা এবং পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মুখোমুখি একটি বিস্তৃত উপকূলরেখা রয়েছে। এটি উত্তরে বারেন্টস সাগর, পশ্চিমে নরওয়েজিয়ান সাগর এবং উত্তর সাগর এবং দক্ষিণে স্ক্যাগারাক (স্কেগার স্ট্রেইট) দ্বারা আবদ্ধ।
অসলো হলো নরওয়ের রাজধানী। এটি নরওয়ের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর। এটি দেশের প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক, শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এছাড়াও অসলো ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র।
নরওয়ে শুধুমাত্র ইউরোপে নয়, সারা বিশ্বে বসবাস করার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি। এই দেশটি বিগত বছরগুলিতে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি তৈরি করেছে। যার ফলে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি এই অপরূপ সুন্দর দেশে চলে আসা বিদেশীদের জন্য নিখুঁত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়াও নরওয়েতে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে যার জন্য অনেক পর্যটক এই দেশে ভিসিট করে।
হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো বিশ্বের অন্যতম সুখী দেশ নরওয়ে সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আপনি যদি নরওয়ে দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
নরওয়ে হলো বিখ্যাত উত্তর আলোর আবাসস্থল
উত্তরের আলো অবশ্যই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য গুলির মধ্যে একটি। উত্তরের আলো তৈরি হয় যখন সূর্য্যের কণা নির্গত হয়ে পৃথিবীতে প্রবেশ করে এবং আমাদের গ্রহের বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান অণু এবং পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ হয়। যখন এই সংঘর্ষ ঘটে তখন এটি অসংখ্য আলোর বিস্ফোরণ তৈরি করে যা উত্তরের আলো তৈরি করে।
যাইহোক, এই উত্তরের আলো বিশ্বের সর্বত্র দেখা যায় না। অল্প কয়েকটি জায়গা রয়েছে যেখানে সরাসরি উত্তরের আলো দেখতে পাওয়া যায় এবং নরওয়ে সেই জায়গাগুলির মধ্যে একটি। নরওয়েতে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে মার্চের শেষের দিকে এই দৃশ্য দেখা যায়।
নরওয়ে দেশে বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তার টানেল রয়েছে
নরওয়ে দেশে অনেক পার্বত্য অঞ্চল আছে। যে কারণে দেশের কিছু কিছু এলাকা সড়ক পরিবহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই জন্য নরওয়ের সরকারকে রাস্তার টানেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। নরওয়ের ল্যারডাল টানেলটি বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তার টানেল। যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় 24 কিলোমিটার।
শীতকালীন অলিম্পিকে নরওয়ের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পদক রয়েছে
নরওয়ে ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র দেশ — এর মোট আয়তন মাত্র 345 বর্গ কিলোমিটার, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের চেয়েও অনেক কম। তবে, এই ছোট আয়তন হওয়া সত্ত্বেও শীতকালীন অলিম্পিকে তারা নিজেদের প্রমান করে দিয়েছে যে কেন তারা অলিম্পিকে সেরা।
সামগ্রিকভাবে, নরওয়ে 368টি পদক জিতেছে এবং এর মধ্যে 132 টি স্বর্ণপদক
শীতকালীন খেলাধুলায় নরওয়ে এত ভাল কেন তার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তাদের খেলোয়াড়রা তাদের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশে বেশ কয়েকটি তুষারময় অবস্থানে প্রবেশ করতে পারে। যার অর্থ হল সারা বছর অনুশীলন করার জন্য তাদের প্রচুর জায়গা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, তাদের তরুণ খেলোয়াড়রা এমন পরিবেশে বড় হয় যেখানে তাদের সর্বদা সবার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। যার জন্য তারা অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় কম নার্ভাস বোধ করে।
নরওয়ে বসবাসের জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি
বেশ কয়েক বছর ধরে, নরওয়ে Human Development Index এ প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। Human Development Index একটি দেশের আয়ু, শিক্ষা এবং GNI Gross National Income পরিমাপ করে করা হয়। এইভাবে নরওয়ে বসবাসের জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে একটি হয়েছে। নরওয়েতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রয়েছে, বিনামূল্যে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুসারে, নরওয়ে বিশ্বের তৃতীয় সুখী দেশ।
নরওয়ের জনগণ অন্যান্য দেশের জনসংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বই পড়ে
নরওয়ের লোকজন বই পড়তে খুব ভালোবাসে। সেখানে প্রতি 10 জনের মধ্যে 9 জন অভ্যাসগতভাবে বই পড়ে। সেখানে একজন লোক প্রতি বছর প্রায় 15 টি বই পড়ে শেষ করে। নরওয়ের জনসংখ্যার বেশিরভাগই ইংরেজি ভাষায় বই পড়তে ভালোবাসে।
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ গুলির মধ্যে একটি হলো নরওয়ে
নরওয়ে একটি অত্যন্ত ধনী দেশ, সেইসাথে থাকার জন্য একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল জায়গা। সর্বোপরি, এই দেশের সরকার জনগণের জন্য একটি ট্রান্সপারেন্ট সিস্টেম করে দিয়েছে। সেখানে প্রত্যেক জনগণ নিজের ট্যাক্স রিটার্ন চেক করতে পারে। যার ফলে দুর্নীতি অনেক কম হয়।
তো এই ছিল নরওয়ে সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।।
উত্তর কোরিয়া দেশের চমকপ্রদ তথ্য | North Korea Unknown Facts
পূর্ব এশিয়ায় কোরিয়ান উপদ্বীপে অবস্থিত রিপাবলিক অফ উত্তর কোরিয়া হল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পৃথক সত্তা থেকে আলাদা হয়েছিল। এবং 1948 সালের 9 সেপ্টেম্বর এর অস্তিত্ব লাভ করেছিল।
স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় একই পরিবারের তিনজন মানুষ শাসন করেছেন। কিম ইল-সাং ছিলেন দেশের প্রথম শীর্ষ নেতা । 1994 সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উত্তর কোরিয়া শাসন করেছেন। এরপর তার পুত্র কিম জং-ইল 17 বছর শাসন করেছেন। এরপর উনি মারা যাওয়ার পর তার পুত্র বর্তমান শাসক কিম জং-উন এই পদে আসেন।
আজ উত্তর কোরিয়ায় প্রায় 25 মিলিয়নেরও বেশি নাগরিক বসবাস করেন এবং প্রতি বছর 4000 থেকে 6000 পর্যটক এই দেশটিতে বেড়াতে আসেন।
হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো বিশ্বের সবচেয়ে গোপন দেশ উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আপনি যদি উত্তর কোরিয়া দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
বর্তমান উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন কে বলা হয় দেশটির লিডার। তাকে প্রেসিডেন্ট বলা হয় না।
উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা কিম ইল-সাং এর মৃত্যুর চার বছর পর ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক কোরিয়ার চিরস্থায়ী নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাই উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নেতা কিম জোন-উনের রাষ্ট্রপতির কোনো টাইটেল নেই। তবে তাকে ডিপিআরকে এর সর্বোচ্চ নেতা, সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার এবং ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান ইত্যাদি বলা হয়।
উত্তর কোরিয়ায় পুরুষ ও মহিলাদের মিলিটারি তে জয়েন হওয়া বাধ্যতামূলক।
উত্তর কোরিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস দেওয়া হয়। 17 বছরের বেশি বয়সের পুরুষদের মিলিটারি তে নিয়োগ করা হয় এবং তাদের 30 বছর পর্যন্ত মিলিটারি সার্ভিস দিতে হয়। অপরদিকে সেখানে সিলেক্টিভলি মহিলাদেরও নিয়োগ করা হয় এবং তাদেরকে 23 বছর হওয়া পর্যন্ত মিলিটারি ট্রেনিং দেওয়া হয়।
উত্তর কোরিয়ার রয়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সামরিক বাহিনী
উত্তর কোরিয়া আয়তনে ছোট হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে প্রায় 1.2 মিলিয়ন সক্রিয় সামরিক বাহিনী রয়েছে, এছাড়া 6 মিলিয়ন রিজার্ভ সেনা হিসাবে কাজ করে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় 6 শতাংশ সক্রিয় সামরিক বাহিনী তে প্রতিনিধিত্ব করে।
উত্তর কোরিয়া জুচ ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে যা বিশ্বের অন্যান্য ক্যালেন্ডার থেকে পুরোপুরি আলাদা
জুচ ক্যালেন্ডারের টাইমলাইন ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিকের প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সাং এর জন্ম বছরের সাথে একত্রিত হয়েছে। তাঁর জন্ম বছর 1912, সেখান থেকেই ক্যালেন্ডারের গণনা শুরু হয়। জুচ ক্যালেন্ডারটি 9 সেপ্টেম্বর 1997 থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং 2021 সালে এই ক্যালেন্ডারের বর্তমান বছর জুচ 112।
উত্তর কোরিয়া জুচ ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি জুচ আদর্শকেও অনুসরণ করে
জুচ, যার অর্থ "স্বনির্ভরতা"। এই কনসেপ্ট টি প্রথম কিম ইল-সাং নিয়ে আসেন। তিনি মনে করতেন "মানুষ তার নিজের ভাগ্যের মালিক" এই ধারণার উপর ভিত্তি করে তারা একটি স্বাধীন জাতি এবং শক্তিশালী সমাজতন্ত্র গড়ে তুলতে পারবে।
এই দেশে কেবলমাত্র চারটি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে যা সমস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন
উত্তর কোরিয়ায় লিমিটেড টেলিভিশন চেনেল রয়েছে। সেখানে চাইলেই যা খুশি দেখানো যায় না। এবং যে চারটি চেনেল সেখানে রয়েছে সব গুলিই রাষ্ট্র প্রধানের নির্দেশে চলে। উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য বর্তমান চারটি চ্যানেল হ'ল কোরিয়ান সেন্ট্রাল টেলিভিশন, মনসুডে টেলিভিশন, য়ংনামসান টেলিভিশন এবং স্পোর্ট টেলিভিশন।
টেলিভিশন এর পাশাপাশি এই দেশে ইন্টারনেটেরও ব্যবহার সীমিত
উত্তর কোরিয়ায় গ্লোবাল ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বেশিরভাগ উচ্চ-স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত এবং উত্তর কোরিয়ার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অল্প সংখ্যক মনিটরিং কম্পিউটার পাওয়া যায়। জনসাধারণ এর জন্য দেশটিতে জাতীয় ইনট্রানেট রয়েছে। যা কোয়াংমিওং নামে পরিচিত।
আপনি জেনে অবাক হবেন 2016 সালে, উত্তর কোরিয়া দুর্ঘটনাক্রমে তাদের ডিএনএস ডেটা ফাঁস করে দিয়েছিল, যেখানে দেখা যায় তাদের কাছে কেবল 28 " টি .কেপি" ডোমেন রয়েছে। যেখানে United Kingdom এর প্রায় 10 মিলিয়ন এর বেশি ".uk" ডোমেন রয়েছে। এবং রেড স্টার ওএস নামে তাদের একটি নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার গড় সাক্ষরতার হার 99 শতাংশ
ভাবলেও অবাক লাগে উত্তর কোরিয়ায় নিয়ম কানুন এত স্ট্রিক্ট হওয়া সত্ত্বেও দেশটি শিক্ষায় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। সেখানে নাগরিকদের ফ্রী এডুকেশন প্রদান করা হয়। স্কুলে পড়া বাচ্চাদের 11 বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে pre-school (এক বছর), primary school (চার বছর) এবং secondary school (ছয় বছর)।
তো এই ছিল উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে কিছু আজনা তথ্য।
ফ্রান্স দেশের চমকপ্রদ তথ্য | France Unknown Facts
ইউরোপের মধ্যে অনেক শহর এবং দেশ রয়েছে যেগুলির মহাদেশে গভীর ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। ফ্রান্স হল ইউরোপের নেতৃস্থানীয় দেশগুলির মধ্যে একটি। এবং বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে ফ্রান্স সমৃদ্ধ সামাজিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই ফরাসি সংস্কৃতি এবং জীবনধারা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও ফরাসি খাবার এবং পোশাক আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে। ফ্রান্স অনেক ঐতিহাসিক স্থান এবং বিখ্যাত শহরের আবাসস্থল। ফরাসি শিল্প আন্তর্জাতিক মঞ্চেও অনেক প্রভাব ফেলেছে। পেইন্টিং, ফ্যাশন, মিউজিক, এবং আরও অনেক কিছু ফ্রেঞ্চ সৃজনশীল থেকে উদ্ভূত। এই কাজগুলি ফরাসি সংস্কৃতির প্রধান অংশ।
ফ্রান্স উত্তর পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত একটি দেশ। ফ্রান্স 7 টি দেশ দ্বারা সীমাবদ্ধ: উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গ; পূর্বে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং ইতালি দ্বারা; এবং দক্ষিণে স্পেন এবং অ্যান্ডোরা দ্বারা। এটি পশ্চিমে বিসকে উপসাগর (উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর) দ্বারাও সীমাবদ্ধ; উত্তর-পশ্চিমে ইংলিশ চ্যানেল এবং দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর দ্বারা। ফ্রান্স উত্তরে যুক্তরাজ্যের সাথে সামুদ্রিক সীমানাও ভাগ করে নেয়।
দেশের উত্তর-মধ্য অংশে অবস্থিত প্যারিস হলো ফ্রান্সের রাজধানী, বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর। এটি দেশের একটি প্রধান প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো ফ্রান্স সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আপনি যদি ফ্রান্স দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো দেশ
ইউরোপের অনেক দেশ অন্যান্য মহাদেশে অবস্থিত দেশ গুলির তুলনায় অনেক ছোট বলে মনে করা হয়। ফ্রান্স যদিও এর ব্যতিক্রম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জায়গা ফ্রান্সের রয়েছে। এত বড়ো দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফ্রান্সকে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
ফ্রান্স বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা দেশ
ফরাসি ইতিহাস এবং সমসাময়িক দেশ থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রভাব এটিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। ইউরোপ থেকে অনেক লোক প্রায়ই উষ্ণ ঋতুর এই আবহাওয়ায় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে ফ্রান্সে ভ্রমণ করে। ফ্রান্সের বহিরাগত প্রকৃতির কারণে আমেরিকা এবং এশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু পর্বতটি এখানে অবস্থিত
আল্পস হল একটি প্রধান পর্বতশ্রেণী যা দেশের সীমানা অতিক্রম করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করে। আল্পস পর্বতের অংশ ধারণ করা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। আপনি জেনে অবাক হবেন যে সমগ্র পর্বতশ্রেণীর সবচেয়ে উঁচু চূড়াটি এই দেশের মধ্যেই অবস্থিত। সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়াটি 4,810 মিটার, এবং এটি নিখুঁত পরিস্থিতিতে আরোহণ করতে প্রায় অর্ধেক দিন সময় লাগে। বহু মানুষ সারা বছর এই পর্বতগুলিতে স্কি করতে এবং আরোহণ করতে ফ্রান্সে ভ্রমণ করে।
ফ্রান্স বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাইক্লিং রেসের আয়োজন করে
বিখ্যাত ট্যুর ডি ফ্রান্স সাইকেল রেসের সাথে অনেকেই পরিচিত। যদিও পেশাদার সাইকেল চালানো অনেক দেশে প্রধান খেলা হিসাবে বিবেচিত হয় না, তবে এই ইভেন্টটি বিশ্বের সেরা সাইক্লিস্টদের দেখার জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে আসে। এবং প্রত্যেক বছর সবচেয়ে বড়ো সাইক্লিং রেসের আয়োজন করা হয় ফ্রান্সে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পনির পাওয়া যায় ফ্রান্সে
ফ্রান্সের রেস্তোরাঁয় বা সুপারমার্কেটে বের হলে দেখা যায় সেখানে কতো ধরণের পনির পাওয়া যায়। প্রতি বছর সেখানে প্রায় এক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি পনির উত্পাদন এবং রপ্তানি করা হয়। সেখানে হাজার হাজার রকমের পনির তৈরি করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রেসিপি এবং খাবারের জন্য ব্যবহার করা হয়।
ফ্রান্স ছিল ক্যাথলিক চার্চের পুরাতন রাজধানী
ক্যাথলিক চার্চ এবং পোপ বর্তমানে ইউরোপের একটি ছোট স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ভ্যাটিকান সিটিতে বসবাস করেন। ধর্মের জন্য এই মনোনীত স্থানটি তৈরি হওয়ার আগে, পোপ এবং গির্জা ফ্রান্সে অবস্থিত ছিল। গীর্জাগুলির স্থাপত্য
ফরাসি স্টাইলের ছিল। যা বর্তমানে সারা বিশ্বে অনুলিপি করা হয়েছে।
ফ্রান্স খাদ্য সংস্কৃতিতে সারা বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে
ফরাসি খাবার সারা বিশ্বে বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে ফরাসি পনির, ওয়াইন এবং রুটির চাহিদা রয়েছে। কিছু কিছু খাবারের সাথে ওয়াইন এবং পনির ফ্রেঞ্চ খাবারের ট্রেডমার্ক হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অনেক বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ফ্রান্সে অবস্থিত, যার ফলে ফ্রান্স বহু পর্যটন আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
তো এই ছিল ফ্রান্স সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।।
তানজানিয়া দেশের চমকপ্রদ তথ্য | Tanzania Unknown Facts
তানজানিয়া পূর্ব আফ্রিকার গ্রেট লেক অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। প্রায় 945,087 বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে অবস্থিত তানজানিয়া মোট আটটি দেশের সাথে সীমানা ভাগ করে। উত্তরে কেনিয়া এবং উগান্ডা , পশ্চিমে রুয়ান্ডা , বুরুন্ডি এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণে জাম্বিয়া , মালাউই এবং মোজাম্বিক । তানজানিয়ার পূর্ব সীমান্ত ভারত মহাসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
প্রায় 76,150 বর্গ কিমি এলাকা নিয়ে তাবোরা তানজানিয়ার বৃহত্তম অঞ্চল। দার-এস-সালাম অঞ্চল যেটি তানজানিয়ার প্রাক্তন রাজধানী এটি জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের বৃহত্তম অঞ্চল। ডোডোমা হলো দেশের বর্তমান রাজধানী।
তানজানিয়া বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত তাদের বন জঙ্গলের জন্য। যারা সাফারি পছন্দ করেন তাদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি। সাফারি অ্যাডভেঞ্চারে যাওয়ার একাধিক সুযোগ ছাড়াও দেশটিতে প্রাকৃতিক দৃশ্যের অনেক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও এই দেশটিতে বেড়াতে গিয়ে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তানজানিয়ায় সবচেয়ে বড় পার্ক রয়েছে যা প্রাণীদের জন্য আরামদায়ক জায়গা সরবরাহ করে।
যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করে যে মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো হলো তানজানিয়ার একমাত্র দেখার মতো গন্তব্য স্থান। তবে এই দেশটিতে দেখার মতো আরো অনেক কিছু রয়েছে। তানজানিয়ার দেশের একটি দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে।
হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত একটি দেশ তানজানিয়া সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আপনি যদি তানজানিয়া দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
তানজানিয়া দেশে বিশ্বের প্রাচীনতম জাতীয় উদ্যানগুলির মধ্যে একটি রয়েছে
তানজানিয়ার সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যানটি কমপক্ষে 1 মিলিয়ন বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। এটি একটি পার্ক এবং এর এলাকা যেমন আছে তেমন বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তানজানিয়ানরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য রক্ষা করতে পেরেছে। সেখানে বিদ্যমান অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। পার্কটির আরও একটি বিশেষত্ব হল এর ওল ডোইনিও লেংগাই। এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। যেখান থেকে অস্বাভাবিক লাভা নির্গত হয় যা এই জমিকে আরো উর্বর করে। বিশ্বের অন্য কোনো আগ্নেয়গিরিতে এর মতো লাভা নির্গত হয় না।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা জলের হ্রদ তানজানিয়ায় অবস্থিত
লেক টাঙ্গানিকা হল দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাদু জলের হ্রদ। প্রথমটি হলো বৈকাল হ্রদ। এই হ্রদে বিশ্বের মিঠা জলের প্রায় 8 শতাংশ রয়েছে। এবং কমপক্ষে 500 প্রজাতির মাছ এই হ্রদে বসবাস করে। আপনি যদি এইভাবে হ্রদে ডুব দেন তাহলে কিন্তু মানুষ খুঁজে পাবেন না। কারণ মাছ গুলি প্রায় জলের 20 মিটার নিচে থাকে।
তানজানিয়া দেশের জাতীয় উদ্যানগুলির মধ্যে একটি অদ্ভুত ধরণের সিংহ দেখা যায়
এই দেশের জাতীয় উদ্যান গুলোতে এমন কিছু অদ্ভুত সিংহ দেখা যায় সেগুলি গাছে উঠতে পারে। সিংহ গুলি কিভাবে গাছে উঠতে পারে যদিও বিজ্ঞানীরা এখনও সেই কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন মাছি থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা গাছে উঠে যায়। কারণ যাই হোক না কেন এই দৃশ্যগুলো দেখতে কিন্তু ভালই লাগে।
বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র সৈকত তানজানিয়ায় রয়েছে
আপনি যদি মনে করে থাকেন তানজানিয়া শুধু মাত্র একটি বন জঙ্গলের দেশ তাহলে আপনি ভুল। আপনার যদি বন জঙ্গল সাফারি ভালো না লাগে তাহলে আপনি সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে পারেন। সেখানে জাঞ্জিবার দ্বীপটি নীল জলে ভাসছে এবং সাদা বালির সাথে দুর্দান্ত সৈকত রয়েছে। এই দ্বীপটি এত জনপ্রিয় না হওয়া সত্ত্বেও এই সমুদ্র সৈকত টি বিশ্বের সেরা সমুদ্র সৈকতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তানজানিয়ায় আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বত অবস্থিত
মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো হল আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বত যা তানজানিয়ায় অবস্থিত। এর চূড়ার একটি শ্বাসরুদ্ধকর পর্বতারোহণ আপনার ভ্রমণ কে আরো মনোমুগ্ধকর করে তুলবে। এর উপরে উঠার সময় আলপাইন মরুভূমি এবং রেইনফরেস্ট সহ বিভিন্ন ধরণের মনোরম দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
তানজানিয়া দেশের খাবার অনেকটাই ভিন্ন ধরণের
আফ্রিকার এই দেশে অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া যায়। এই দেশের বেশিরভাগ খাবারই বিদেশি স্বাদযুক্ত খাবার। তানজানিয়ার জনগণ মশলাযুক্ত খাবার খেতে পছন্দ করেন।
তো এই ছিল তানজানিয়া দেশ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।।
উরুগুয়ে দেশের চমকপ্রদ তথ্য | Uruguay Unknown Facts
উরুগুয়ে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের মধ্যে অবস্থিত একটি প্রাণবন্ত দেশ। এটি স্পেনের একটি প্রাক্তন উপনিবেশ। উরুগুয়ে একটি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ দেশ। যদিও এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ তবুও সেখানকার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, বিস্ময়কর খাবার এবং আকর্ষণীয় ঐতিহ্যে ভরপুর এই দেশ।
হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত একটি দেশ উরুগুয়ে সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আপনি যদি উরুগুয়ে দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনারই জন্য। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
উরুগুয়ে দেশের বিশ্বের দীর্ঘতম জাতীয় সঙ্গীত রয়েছে
উরুগুয়ে 1828 সালে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল কিন্তু তাদের তখন কোনো জাতীয় সঙ্গীত ছিল না। 1833 সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উরুগুয়ের জাতীয় সঙ্গীত ঘোষণা করা হয়। এই সঙ্গীতের মূলত 11টি শ্লোক ছিল। প্রায় 5 মিনিট দীর্ঘ সময় ধরে এই দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।
উরুগুয়ে এই দেশটির নামের অর্থ হলো "যেই নদীতে পাখিরা বসবাস করে"
উরুগুয়ে নামটি এসেছে গুয়ারানি ভাষা থেকে। এটি একটি আদিবাসী ভাষা যা দক্ষিণ আমেরিকার অনেক অঞ্চলে বলা হয়। এখানে পাখি বলতে উরু পাখিকে বোঝানো হয়েছে। উরু পাখি! যা এক ধরনের কোয়েলের নাম। আর গুয়া ওয়াই এর অর্থ হলো "জল থেকে"।
উরুগুয়ের একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রপতি ছিল
জোসে মুজিকা 2010 সাল থেকে 2015 সাল পর্যন্ত উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উরুগুয়ের জনগণ তাঁর নম্র জীবনধারার জন্য উনাকে অনেক ভালবাসতেন। দেশের প্রতি তার অঙ্গীকারের অংশ হিসাবে, সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তার 90 শতাংশ আয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিকদের দান করেছেন। এমনকি তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও তিনি, তার স্ত্রী এবং তাদের কুকুরের সাথে একটি খামারে বসবাস করতেন।
উরুগুয়েতে মানুষের তুলনায় প্রায় দুই গুণ বেশি ভেড়া রয়েছে
উরুগুয়েতে সাধারণত উল এবং মাংসের জন্য ভেড়া পালন করা হয়। দেশে সাম্প্রতিক গবাদি পশুর গণনা প্রকাশ করেছে যে সেখানে প্রায় 64 লক্ষ ভেড়া রয়েছে। উরুগুয়ের জনসংখ্যা প্রায় 44 লক্ষ।
উরুগুইয়ানরা তাদের বাড়ির নাম রাখতে পছন্দ করেন
সংখ্যার পরিবর্তে উরুগুয়ানরা তাদের ঠিকানা খুঁজতে নাম ব্যবহার করেন। এটি উরুগুয়ের গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সেখানে আপনি কোনো সাইনবোর্ড দেখতে পাবেন না। সেখানে একটি বাড়ি খুঁজতে স্থানীয়রা প্রায়ই একটি ঠিকানার পরিবর্তে বর্ণনার উপর নির্ভর করে।
উরুগুয়ের রেস্টুরেন্টে কোনো লবণ নেই
ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন এর মতে দ্বিগুণ পরিমাণ লবণ খাওয়ার কারণে সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ ধমনী চাপের সমস্যায় পড়েছেন। সেইজন্য দেশের সরকার রেস্তোরায় লবণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও সেখানকার স্কুল থেকেও লবণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উরুগুয়ের 98% বিদ্যুৎ আসে নবায়নযোগ্য সম্পদ থেকে
দেশের প্রায় সব শক্তিই টেকসই উৎস যেমন বায়ু এবং সৌরশক্তি থেকে আসে। পরিবেশকে সাহায্য করার পাশাপাশি এই পরিবর্তন দেশকে নাটকীয়ভাবে শক্তির দাম কমাতে এবং দেশে বিদ্যুৎ সংকটের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে।
উরুগুয়েতে একটি জাতীয় দুধের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়
প্রতি অক্টোবরের শেষের দিকে সেখানে স্থানীয়রা দুধের একটি উৎসব উদযাপন করে। সেখানে নাচ গান এবং প্রচুর খাবারের জন্য কার্ডাল শহরে জড়ো হয়। এই কার্ডাল শহরটিকে সেই দেশের দুধের রাজধানী বলা হয়।
উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের মধ্যে একটি চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে
দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ ফুটবলকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং উরুগুয়েও তার ব্যতিক্রম নয়। উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার ফুটবল দলগুলি গত শতাব্দী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে এবং উভয় দেশের ফুটবল অনুরাগীরা তাদের নিজেদের দল নিয়ে খুবই গর্ব করে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলার সময় উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার তুলনা করা সেখানে অভদ্র বলে বিবেচিত হয়।
তো এই ছিল উরুগুয়ে সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।।
কলম্বিয়া দেশের চমকপ্রদ তথ্য | Columbia Unknown Facts
কলম্বিয়া সরকারিভাবে কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত। এই দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। কলম্বিয়াকে ঘিরে রয়েছে পাঁচটি দেশ। এর উত্তরে রয়েছে ক্যারিবিয়ান সাগর। উত্তর-পশ্চিমে পানামা, পূর্বে ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণে ইকুয়েডর ও পেরু, পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে ব্রাজিল রয়েছে।
কলম্বিয়ার রাজধানী শহর হলো বোগোটা। এবং দেশের বেশিরভাগ জনগণ এই শহরে বসবাস করে। হ্যালো বন্ধুরা! আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো কলম্বিয়া দেশ সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। আশা করছি প্রতিবেদনটি আপনাদের ভালো লাগবে।
কলম্বিয়া দেশের ইতিহাস শত শত বছর পুরোনো
বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে প্রায় 20,000 বছরেরও বেশি আগে আধুনিক কলম্বিয়ার মানুষ বসতি স্থাপন করেছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করে যে,,,,, কলম্বিয়া এখন যে অঞ্চলে রয়েছে, এই অঞ্চলটি সেই সময়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, প্রধানত দেশটির সমস্ত জীববৈচিত্র্যের কারণে। এছাড়াও, অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় কমপক্ষে 12,000 BCE থেকে কলম্বিয়াতে বসবাস করছে। এর মধ্যে মুইসকা, কুইম্বায়া এবং তাইরোনা অন্যতম।
এখনো তাইরোনা মানুষ দের কলম্বিয়া তে দেখা যায়। যাইহোক, এরপর 1499 সালে স্পেনিশ রা এই দেশে এসেছিল। এবং এরপর থেকে সেখানে অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে। যেমন ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের সংস্পর্শে আসার পরে অনেক আদিবাসী হঠাৎ মারা যায়। এর পিছনে কারণ ছিল স্পেনিশ রা বিভিন্ন রোগ নিয়ে এসেছিল যা আদিবাসী দের অভ্যস্ত ছিল না। তাই তাদের শরীরে নতুন ভাইরাসের কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না।
কলম্বিয়া একটি খুব বৈচিত্র্যময় দেশ
কলম্বিয়া মেগাডাইভার্স দেশের তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হল কলম্বিয়া শুধুমাত্র তার সংস্কৃতিতেই সমৃদ্ধ নয়, তাদের জাতিসত্তা, উদ্ভিদ, প্রাণীজগত এবং এমনকি তাদের অঞ্চলেও সমৃদ্ধ।
আমেরিকান সভ্যতা থেকে ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারী, আফ্রিকান শ্রম থেকে এশিয়ান এবং মধ্য প্রাচ্যের ইমিগ্রেশন,,,,কলম্বিয়ার লোকেরা এই সমস্ত সংস্কৃতির মিশ্রণ।
কলম্বিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ এবং এই অঞ্চলটিতে আমাজন রেইনফরেস্ট থেকে শুরু করে তীব্র উচ্চভূমি, প্রশান্ত মহাসাগর, কিছু দর্শনীয় মরুভূমি এবং কিছু আগ্নেয়গিরি পর্যন্ত দেখা যায়৷
এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্থানীয় প্রজাতির পাখি, অর্কিড, উভচর প্রজাতির প্রাণী এবং প্রজাপতি কলম্বিয়ায় রয়েছে। তাই ব্রাজিল ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশ কলম্বিয়ার সাথে এর জৈবিক বৈচিত্র্যের তুলনা করা হয় না।
বর্তমান কলম্বিয়া লা গ্রান কলম্বিয়া নামক একটি বড় জাতির অংশ ছিল
বিগ কলম্বিয়া অন্যান্য ছোট দেশ যেমন ইকুয়েডর, পানামা, মধ্য আমেরিকার কিছু অংশ, ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, পেরুর কিছু অংশ এবং ভেনেজুয়েলা নিয়ে গঠিত ছিল।
এই জন্যই মূলত কলম্বিয়া, ইকুয়েডর এবং ভেনিজুয়েলা- এই তিনটি দেশের পতাকা একে অপরের সাথে মিল রয়েছে।
লা গ্রান কলম্বিয়া 1819 সালে তৈরি হয়েছিল এবং এটি 1831 সাল পর্যন্ত ছিল। এটি প্রায়শই বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হত।
কলম্বিয়া দেশটি তাদের খাদ্য ও পানীযয়ের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত
কলম্বিয়া মূলত বিদেশী ফলের জন্য পরিচিত! বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই সব ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও কলম্বিয়া তে ছোট থেকে বড়ো সবাইকে কফি পান করার অনুমতি দেওয়া হয়। ব্রাজিল এবং ভিয়েতনামের পরে কলম্বিয়া হল বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম কফি রপ্তানি কারক দেশ।
এছাড়াও, কলম্বিয়ানরা আগু প্যানেলা নামক একটি পানীয় পান করে থাকে যা আখের সাথে জল মিশিয়ে গরম করে পরিবেশন করা হয়। যারা কফি পান করে না তারা এটি পান করতে পছন্দ করে।
এছাড়াও কলম্বিয়ার মানুষ সবচেয়ে বেশি স্যুপ পান করে। কারণ তারা প্রত্যেক খাবারের আগে এই স্যুপ পান করে।
কলম্বিয়া নামের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে
ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে চিনতে এবং মনে রাখার উপায় হিসাবে কলম্বিয়ার নামকরণ করা হয়েছে। তাই দেশের সঠিক নাম, উচ্চারণ এবং বানান হলো কলম্বিয়া। অনেক পর্যটক কলম্বিয়া কে ভুল করে columbia উচ্চারণ করে। যা সম্পূর্ন অর্থে ভুল।
কলম্বিয়াতে বয়স অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
কলম্বিয়ানরা বয়স কে অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়। সেখানে কোনো মেয়ের যখন 15 বছর বয়স হয় তখন তাদের বাড়িতে তাদের পরিবার সহ পার্টি করা হয়। যাকে Fifteen Party বলা হয়। এছাড়াও সেখানে বয়স্কদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হয়। পরিবারের সমস্ত গুরুত্ব পূর্ন তথ্য বয়স্কদের কাছে থাকে।
তো এই ছিল কলম্বিয়া সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য।।
কানাডা দেশের চমকপ্রদ তথ্য | Canada Unknown Facts
কানাডা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ| ভ্রমন প্রিয় মানুষদের কাছে কানাডা দেশটি একটা সেরা গন্তব্য। কানাডার সৌন্দর্যময়, বিস্ময়কর স্থান এবং অদ্ভুত ইতিহাসের একচেটিয়া সমন্বয় রয়েছে। ভারতের পাঞ্জাবী লোকদের সবচেয়ে বেশি কানাডায় দেখতে পাওয়া যায়। তারা মূলত ব্যবসা করতে বা পড়াশোনা করতে বা অন্যান্য কাজে সেখানে বসবাস করে। কানাডায় অনেক বেশি ফ্যাসিলিটি রয়েছে যে কারণে মানুষের প্রথম পছন্দ কানাডা থাকে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানবো কানাডা সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য যেগুলি আপনাকে অবশ্যই চমকে দেবে।
কানাডা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একটি অংশ। কানাডা 9,093,507 বর্গ কিলোমিটার ভূমি জুড়ে অবস্থিত। রাশিয়ার পরে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। কানাডার মোট জনসংখ্যা প্রায় 39,858,480।
কানাডার রাজধানী হল অটোয়া যা বিশ্বের দ্বিতীয় শীতলতম রাজধানী।
কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত দেশ। সেখানে ছোট থেকে বড় সবার শিক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
জন ক্যাবট ছিলেন প্রথম ভ্রমণকারী যিনি 1497 সালে কানাডায় পৌঁছেছিলেন।
কানাডার সর্বনিম্ন নথিভুক্ত তাপমাত্রা ছিল -62.8 ডিগ্রি সেলসিয়াস 1947 সালে।
কানাডা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি পনির এবং ম্যাকারনি খায়।
অন্যান্য দেশের তুলনায় কানাডায় অনেক বেশি হ্রদ রয়েছে। সেইজন্য অন্যান্য দেশের তুলনায় কানাডায় অনেক বেশি হ্রদ রয়েছে। যদিও কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ তবে এটি স্থলভাগের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এর কারণ হল এই দেশটি গ্রহের সবচেয়ে বড় হ্রদের আবাসস্থল - 2,000,000 এরও বেশি। এই হ্রদের মধ্যে 563টি 39 বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। এই সংখ্যাগুলির সাথে, কানাডা বিশ্বের বেশিরভাগ স্বাদু জলের উত্স।
কানাডার ইয়ঞ্জ স্ট্রিট হল বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা যার আয়তন 1,896 কিমি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পার্ল হারবার আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগে কানাডা জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ।
কানাডা/ইউএস বর্ডার হল বিশ্বের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্ত। উত্তর আমেরিকার দুটি দেশের মধ্যে বিভাজন রেখা 5,525 মাইল বিস্তৃত, এটি পৃথিবীর মুখে দীর্ঘতম স্থল সীমানা তৈরি করে। এই সীমান্তের প্রায় 1,538 মাইল কানাডা আলাস্কার সাথে ভাগ করে নিয়েছে। সীমান্তের বেশিরভাগ অংশ বন, পাহাড়, এমনকি গ্রেট লেক এবং সেন্ট লরেন্স নদীর কিছু অংশ অতিক্রম করে।
কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীতে তৃতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের রিজার্ভ রয়েছে ৷
হাওয়াইয়ান পিজ্জাটি কানাডার স্যাম প্যানোপোলোস দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল এবং এখন এটি অস্ট্রেলিয়াতে সবচেয়ে জনপ্রিয় পিজ্জার ধরণ ।
কানাডার রডনি, অন্টারিওতে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট জেল রয়েছে।
কানাডা বিশ্বের বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হওয়া সত্ত্বেও কানাডায় মাত্র 6 টি টাইম জোন রয়েছে।
কানাডার ওয়াসাগা সমুদ্র সৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম মিঠা পানির সৈকত।
বেসবল গ্লাভ 1883 সালে কানাডায় আবিষ্কৃত হয়েছিল।
কানাডা তিনবার অলিম্পিক গেমস আয়োজন করেছে; মন্ট্রিলে 1976, ক্যালগারিতে 1988 এবং ভ্যাঙ্কুভারে 2010।
1967 সালে আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে কানাডায় সর্বজনীন প্রদর্শনীর জন্য স্থানান্তরিত হয়েছিল।
বিশ্বের মেরু ভালুকের পঞ্চাশ শতাংশ কানাডার নুনাভুতে বাস করে ।
কানাডা তার বরফ ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত যা হিমায়িত আঙ্গুর চেপে তৈরি করা হয়।
মহাকাশে পৌঁছানোর তৃতীয় দেশ ছিল কানাডা, যা 1962 সালে সবচেয়ে উন্নত মহাকাশ কর্মসূচির জন্য লিস্টেড হয়েছিল।
বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় কানাডা মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি ডোনাট খায়।
কানাডা বিশ্বের বৃহত্তম ইংরেজি- এবং ফরাসি-ভাষী দেশ।
আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত দেশটির সাথে, কানাডা সত্যিই পরিচিত বিশ্বের বৃহত্তম অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। সেই সাথে বলা হচ্ছে, এটি তার সমৃদ্ধ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কারণে গ্রহের বৃহত্তম ইংরেজি- এবং ফরাসি-ভাষী দেশ। কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে 1969 সালে দ্বিভাষিক হয়ে ওঠে।
তো এই ছিল কানাডা দেশ সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য। আশাকরি এই প্রতিবেদনটি পড়ে আপনি কানাডা সম্পর্কে কিছু তথ্য ধারনা করতে পেরেছেন।।
জাপান দেশ পরিচিতি | জাপান কেমন দেশ?
জাপান পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত একটি আগ্নেয় দ্বীপ দেশ। জাপানের রাজধানী হলো টোকিও, যা দেশের বৃহত্তম শহরও বটে। জাপান মোট 6,852 টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় 12 কোটি 70 লক্ষ, যা বিশ্বের দশম বৃহত্তম জনসংখ্যা। সবচেয়ে বড় দ্বীপ হল হোক্কাইডো, হোনশু, শিকোকু এবং কিউশু, যা জাপানের ভূমির 97% অংশ জুড়ে রয়েছে। এই চারটি দ্বীপকে হোম আইল্যান্ড বলা হয়। নিহন হল দেশটির জাপানি নাম এবং এর অর্থ "উদীয়মান সূর্যের দেশ"। দেশটির জাতীয় ভাষা জাপানি, যদিও দেশে 11টি স্বীকৃত ভাষা রয়েছে। দেশটিতে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র রয়েছে।
জাপান এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। এশিয়া সাতটি মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম মহাদেশ এবং জনসংখ্যা সর্বাধিক। মহাদেশটি 44,579,000 বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে এবং এর জনসংখ্যা 450 কোটি, যা বিশ্বের জনসংখ্যার 60% প্রতিনিধিত্ব করে। এশিয়া উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। বিশ্বের অনেক ধর্মের উৎপত্তি এশিয়া থেকে। এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নামমাত্র জিডিপি রয়েছে, ইউরোপের পরে, কিন্তু ক্রয় ক্ষমতা সমতা জিডিপির দিক থেকে প্রথম স্থানে রয়েছে। এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে জাপান, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরে অনুভূত হয়েছে। এই দেশগুলো এখন এশিয়ার সর্বোচ্চ জিডিপি সহ উন্নত রাষ্ট্র।
জাপানের ভূখণ্ডে 6,852 টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে যা প্রায় 377,900 বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের থেকে সামান্য ছোট, কিন্তু জার্মানির চেয়ে বড়। জাপানি হল দেশের সরকারী ভাষা। জাপান একটি উচ্চ শিল্পোন্নত দেশ এবং এটি তার প্রধান বিমানবন্দর, রাস্তা, এক্সপ্রেসওয়ে এবং শহরগুলির জন্য বিখ্যাত।
জাপানের 12 কোটি 70 লক্ষ জনগণের মধ্যে প্রায় 80% হোনশু দ্বীপে বসবাস করে। দেশের প্রাথমিক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হল ইয়ামাতো সম্প্রদায়, যখন রাজ্যের ক্ষুদ্রতম গোষ্ঠীগুলির মধ্যে রয়েছে রিউকুয়ান এবং আইনু জনগোষ্ঠী। 98.5% এরও বেশি বাসিন্দা জাপানি।
জাপান নিম্নলিখিত দেশগুলির সাথে সামুদ্রিক সীমানা ভাগ করে: তাইওয়ান (চীন প্রজাতন্ত্র), উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ (মার্কিন অঞ্চল), ফিলিপাইন , রাশিয়া , দক্ষিণ কোরিয়া , চীন এবং উত্তর কোরিয়া।
জাপান দ্বাদশ শতাব্দী থেকে 1868 সাল পর্যন্ত সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত অসংখ্য সামরিক শোগুন দ্বারা শাসিত হয়েছিল এবং সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে দেশটি বিচ্ছিন্নতার যুগে প্রবেশ করেছিল। এই সময়কালে জাপানিদের রাজ্য ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সমস্ত বিদেশীদের জাপানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। 1853 সালে ম্যাথিউ পেরির নেতৃত্বে মার্কিন ব্ল্যাক শিপগুলি চুক্তির ক্রমানুসারে পশ্চিমা দেশগুলির কাছে তাদের দেশ উন্মুক্ত করতে বাধ্য করার পরে বিচ্ছিন্নতার সময়কাল শেষ হয়েছিল।
1868 সালে জাপানি ইম্পেরিয়াল কোর্ট তার রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করে এবং জাপানি সাম্রাজ্যের সৃষ্টি করে। ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর রুশো-জাপানি যুদ্ধ এবং প্রথম চীন-জাপানি যুদ্ধের মতো যুদ্ধে তাদের বিজয় তাদের জন্য তাদের অঞ্চল প্রসারিত করা সম্ভব করে তোলে। নাগাসাকি এবং হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর জাপান আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। দেশটি 1947 সালে তাদের বর্তমান সংবিধান গ্রহণ করে এবং তারপর থেকে তারা একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের সরকার বজায় রেখেছে।
জাপানের সরকার একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র যেখানে সম্রাটের ক্ষমতা প্রধানত আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারের তিনটি শাখা রয়েছে: এক্সিকিউটিভ বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগ। সম্রাট হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। তার অবস্থান কোনোভাবেই সরকারের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে না। প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান। জাপানি সংবিধান 1947 সালে গৃহীত হয়েছিল, এবং এটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটি সংশোধন করা হয়নি।
জাপানের একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং সাক্ষরতা, গণিত এবং বিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে একটি হিসাবে স্থান পেয়েছে, যা দেশের কর্মশক্তি এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে। জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানিকারক এবং আমদানিকারক এবং 1900-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশটির নামমাত্র জিডিপি এশিয়ার বাকি অংশের মতোই ছিল। দেশটি বিশ্বের কিছু বড় এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত শিল্পের আবাসস্থল। জাপানের বেকারত্বের হার মাত্র 4%, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন এবং বিশ্বের সর্বনিম্ন করের হারগুলির মধ্যে একটি দেশ। জাপানের গাড়ি শিল্প বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং জাপানের টয়োটা কোম্পানি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বয়ংচালিত প্রস্তুতকারক। উপরন্তু, দেশের 13% জমি কৃষি বিশেষ করে ধানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এবং একটি শক্তিশালী মাছ ধরার খাত রয়েছে যা বিশ্বের বার্ষিক মাছ ধরার প্রায় 15% উত্পাদন করে। জাপানের একটি শক্তিশালী পর্যটন শিল্পও রয়েছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক জাপানে ভ্রমন করে।
জাপানে 108টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি 20 শতকে আবির্ভূত হয়েছিল। দেশটি সুনামি এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সাধারণত প্রতি শতাব্দীতে ঘটে। 2013 সালে দেশটি সর্বোচ্চ দুর্যোগ ঝুঁকির নিরিখে বিশ্বের পনেরতম স্থানে ছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের মধ্যে রয়েছে 11 মার্চ 2011, তোহোকু ভূমিকম্প, 1995 সালের গ্রেট হ্যানশিন ভূমিকম্প এবং 1923 সালের টোকিও ভূমিকম্প।
জাপানের দ্বীপপুঞ্জে পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল বরাবর বিস্তৃত 6,852 টি দ্বীপ রয়েছে, যেখানে চারটি প্রধান দ্বীপ রয়েছে (কখনও কখনও "হোম আইল্যান্ড" হিসাবে উল্লেখ করা হয়): হোক্কাইডো, হোনশু, কিউশু এবং শিকোকু।
হোনশু হল জাপানের প্রধান দ্বীপ, এবং দৈর্ঘ্যে 1,300 কিমি বৃহত্তম। সেখানে বহু পর্বত এবং আগ্নেয়গিরি রয়েছে। মার্চ 2011 এর বিশাল ভূমিকম্প হোনশুকে 7.9 ফুট (2.4 মিটার) সরিয়ে নিয়েছিল।
দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ হলো হোক্কাইডো, এটি জাপানের দ্বীপগুলির সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত। অপর প্রান্তে, কিউশু সবচেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। শিকোকু চারটি প্রধান দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং কম জনবহুল।
প্রধান অভ্যন্তরীণ পর্বতশ্রেণীর মধ্যে রয়েছে আকাইশি, হিডো এবং কিসো, যেখানে উচ্চতা সাধারণত 3,000 মিটার অতিক্রম করে। দেশের সর্বোচ্চ বিন্দু হলো মাউন্ট ফুজি, যা টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যা 3,776 মিটার উঁচু।
জাপানের দ্বীপগুলি রিং অফ ফায়ারে অবস্থিত এবং ফলস্বরূপ ঘন ঘন সহিংস ভূমিকম্প এবং কিছু গুরুতর আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যায়। জাপানের দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে মোট 108টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতি শতাব্দীতে কয়েকবার বিধ্বংসী ভূমিকম্প এবং সুনামিকে ডেকে নিয়ে আসে।
তো এই ছিল জাপান সম্পর্কে কিছু তথ্য।।
জাপানের রাজধানীর ইতিহাস | টোকিও সম্পর্কে তথ্য
জাপান হল পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ যা এশিয়ান কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং জাপান সাগরের মধ্যে দ্বীপগুলির একটি শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত। এই দ্বীপটি উত্তরে ওখোটস্ক সাগর থেকে দক্ষিণে পূর্ব চীন সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি পশ্চিমে জাপান সাগর দ্বারা সীমাবদ্ধ। দেশটি উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, রাশিয়া এবং চীনের সাথে তার সামুদ্রিক সীমানা ভাগ করে নেয়।
কেন্দ্রীয় হনশু দ্বীপপুঞ্জের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে টোকিও উপসাগরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত টোকিও হলো বর্তমান জাপানের রাজধানী এবং জাপানের বৃহত্তম শহর। বৃহত্তর টোকিও এলাকা হল জাপানের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম, সর্বাধিক জনবহুল, নগরায়িত মেট্রোপলিটন এলাকা। টোকিও দেশটির প্রশাসনিক কেন্দ্র ছাড়াও জাপানের বৃহত্তম অর্থনৈতিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গঠন করে।
টোকিও জাপানের রাজধানী শহর 1868 সাল থেকে এডো থেকে নাম পরিবর্তন করার পর এই শহরটি শিরোনামে রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, তৎকালীন সম্রাট শহরে তার কর্তৃত্বের আসন প্রতিষ্ঠার পর শহরটি দেশের রাজধানী হয়ে ওঠে। জাপানের ইতিহাসে প্রথম রাজধানী শহরটি ছিল জাপানের প্রথম সম্রাট জিম্মুর শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত কাশিবাবারা। এর দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে জাপানের রাজধানী হিসেবে কাজ করা অসংখ্য শহর রয়েছে।
নাগাওকা-কিও:
সম্রাট কানমু হেইজো থেকে সরকারের আসন হস্তান্তর করার পরে 784 সালে নাগাওকা-কিও জাপানের রাজধানী শহর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নাগাওকা-কিও সম্রাটের এই শহর পছন্দের পিছনে কারণ ছিল নদীর উপস্থিতি যা চমৎকার জল পরিবহন সরবরাহ করবে। যাইহোক, এই নদীগুলি শহরের পতনের কারণও ছিল। কারণ এরফলে সেখানে ঘন ঘন বন্যা হতো এবং সেখানকার লোকজনের মধ্যে জলবাহিত রোগ ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত 794 সালে সম্রাট রাজধানী হেইয়ান-কিওতে স্থানান্তর করতে বাধ্য করে।
কিয়োটো:
এই শহরটি মূলত হেইয়ান-কিও নামে পরিচিত, কিয়োটো ছিল এক সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে জাপানের রাজধানী শহর। 794 সালে সম্রাট কানমু নাগাওকা-কিও থেকে সরকারের আসনটি শহরে স্থানান্তরিত করার পর কিয়োটো রাজধানী শহরের মর্যাদা লাভ করে। সম্রাট কিয়োটোকে প্রাচীন চীনা শহর চ্যাংআনের পরে মডেল করেছিলেন এবং শহরটি প্রশস্ত রাস্তাগুলির সাথে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দুটি কৃত্রিম খাল খনন করা হয়েছিল যা বাসিন্দাদের স্থির জল সরবরাহ করে এবং বন্যার বিরুদ্ধে শহরকে রক্ষা করেছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিয়ান-কিও আগুনে জর্জরিত ছিল এবং 1467-1477 ওনিন যুদ্ধের সময় প্রায় মাটিতে পুড়ে গিয়েছিল। 17 শতকের গোড়ার দিকে টোকুগাওয়া শোগুনেটের উত্থানের ফলে শেষ পর্যন্ত 1608 সালে সরকারের আসনটি এডোতে স্থানান্তরিত হয়। যাইহোক, 1868 সালে এডোর নাম পরিবর্তন করে টোকিও না হওয়া পর্যন্ত কিয়োটো আনুষ্ঠানিক রাজধানী শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।
এডো:
টোকুগাওয়া গোষ্ঠীর সামন্ত সামরিক শাসনামলে এডো ছিল সরকারের আসন এবং তাই 1608 থেকে 1868 সালের মধ্যে জাপানিদের প্রকৃত রাজধানী ছিল। টোকুগাওয়া শহরে এডো দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন যা ছিল "শোগুন"-এর সরকারি বাসভবন। এডো শহরটি দুর্গের চারপাশে গড়ে উঠেছিল এবং দ্রুত একটি নম্র মাছ ধরার গ্রাম থেকে 18 শতকে বিশ্বের বৃহত্তম নগর কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। টোকুগাওয়া শোগুনেট শহরের প্রশাসন ও পরিকল্পনায় যথেষ্ট দক্ষ ছিল কারণ এটি এমন প্রশাসকদের প্রতিষ্ঠা করেছিল যারা ফৌজদারি এবং দেওয়ানি বিরোধে বিচারক হিসাবে কাজ করেছিল এবং একটি শহরের অগ্নি বিভাগও প্রতিষ্ঠা করেছিল। ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সমালোচনামূলক ছিল কারণ এডো 1657 সালের মেইরেকির গ্রেট ফায়ার সহ অসংখ্য বিপর্যয়কর দাবানলে জর্জরিত হয়েছিল যেখানে আনুমানিক 100,000 মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। যদিও সেইসময় এডো রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং প্রকৃত রাজধানী শহর ছিল, কিয়োটো তখনও জাপানের সরকারী রাজধানী শহর হিসাবে স্বীকৃত ছিল। 1868 সালে টোকুগাওয়া শোগুনেটের রাজত্বের অবসান ঘটে এবং এডোর নাম পরিবর্তন করে টোকিও রাখা হয় এবং দেশের প্রকৃত রাজধানী হিসাবে এর ভূমিকা বজায় রাখে।
টোকিও:
1867 সালে টোকুগাওয়া শোগুনেটের পদত্যাগের পর, 17 বছর বয়সী সম্রাট মেইজির অধীনে দেশটি বড় সংস্কারের অভিজ্ঞতা লাভ করে যার মধ্যে 1868 সালে এডোর নাম পরিবর্তন করে টোকিও রাখা হয় এবং এডো ক্যাসেলের নাম পরিবর্তন করে ইম্পেরিয়াল প্যালেস রাখা হয়। শহরটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর এবং অনেক শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। টোকিওর মেট্রোপলিটন অঞ্চলটিতে প্রায় 4 কোটি জনসংখ্যা সহ বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যা বসবাস করে।
যদিও টোকিওকে জাপানের রাজধানী শহর হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তবে দেশে এমন কোনও আইন নেই যা স্পষ্টভাবে টোকিওকে সেই পার্থক্য দেয়। তাই টোকিওকে ডি ফ্যাক্টো ক্যাপিটাল হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং জাপানের ডি জুর ক্যাপিটাল নয়।
তো এই ছিল জাপানের রাজধানী শহর সম্পর্কে কিছু তথ্য।।
দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার সীমানা সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য
দক্ষিণ কোরিয়া পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ। দক্ষিণ কোরিয়া কোরীয় উপদ্বীপের অর্ধেক দখল রয়েছে, এর পূর্বে জাপান সাগর এবং পশ্চিমে হলুদ সাগরের সীমানা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ প্রান্ত কোরিয়া প্রণালী এবং পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। সামরিক সীমানা রেখা দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্থল সীমান্ত গঠন করে।
একমাত্র দেশ যেটির সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থল সীমান্ত রয়েছে উত্তর কোরিয়া । দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমানা দৈর্ঘ্যে 148 মাইল, কোরীয় উপদ্বীপকে বিচ্ছিন্ন করেএবং পূর্ব সাগর থেকে হলুদ সাগর পর্যন্ত প্রসারিত। এই আন্তর্জাতিক সীমান্তটি বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং প্রায়শই "পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক সীমান্ত" হিসাবে বিবেচিত হয়। 20 শতকের মাঝামাঝি কোরিয়ান যুদ্ধের পরে সীমান্তটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যার ফলে উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি কোরিয়ান দেশ তৈরি হয়েছিল। সীমান্তটি মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইন নামেও পরিচিত এবং দুটি সীমান্তবর্তী দেশ থেকে এখানে ভারী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলি যৌথ নিরাপত্তা এলাকা নামে পরিচিত একটি ছোট ছিটমহল ছাড়া সীমান্তে আন্তঃসীমান্ত চলাচলের অনুমতি নেই সীমান্তটি ডিমিলিটারাইজড জোন দ্বারা মার্ক করা হয়েছে, একটি 2.5 মাইল প্রশস্ত ভূমি যা দুই দেশের মধ্যে বাফার হিসাবে কাজ করে।
ডিমিলিটারাইজড জোনে অবস্থিত কয়েকটি শহরের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ছোট শহর দেসেওং-ডং যেটি অসামরিক অঞ্চলের দক্ষিণ অংশের একমাত্র বেসামরিক শহর। সীমান্তে অবস্থানের কারণে, শহরের বাসিন্দারা দৈনিক হেডকাউন্ট এবং কারফিউ সাপেক্ষে যখন শহর পরিদর্শন করার সময় দর্শকদের একটি সামরিক এসকর্ট থাকতে হয়। সীমান্ত শহরের একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল দুটি দেশের মধ্যে একটি চলমান "পতাকা যুদ্ধ", যেখানে তারা নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চলের নিজ নিজ পাশে বিশাল পতাকা খুঁটি তৈরি করেছে। দেসেওং-ডং থেকে প্রায় 1.6 কিমি দূরে একটি সেতু যা সামরিক সীমানা রেখা অতিক্রম করে যা "ব্রিজ অফ নো রিটার্ন" নামে পরিচিত। সেতুটির এমন নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের মধ্যে বন্দীদের আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল যাদেরকে তারা যে দেশে বন্দী করা হয়েছিল সেখানে ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জয়েন্ট সিকিউরিটি এলাকা কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি সাইট যা ট্রুস ভিলেজ নামেও পরিচিত। এলাকাটি 2600 ফুট প্রস্থের একটি ছিটমহল যা সীমান্তের একমাত্র নিরপেক্ষ অবস্থান হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এটিই একমাত্র স্থান যেখানে সীমান্তবর্তী দেশগুলির বাহিনী একে অপরের মুখোমুখি হয়। এলাকাটি উত্তর কোরিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেই বরং জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোরিয়ান আর্মিস্টিস চুক্তির বিধান অনুসারে সাইটটি 1953 সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
নর্দান লিমিট লাইন হল একটি সীমারেখা যা উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক দাবিকে আলাদা করে। এটি হান নদীর মোহনা থেকে শুরু হয় এবং পশ্চিমে হলুদ সাগর পর্যন্ত প্রসারিত হয়। বর্তমানে, সীমানা রেখাটি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একমাত্র সামুদ্রিক সীমানা হিসাবে কাজ করে, যদিও বাস্তব অবস্থাতে। সামুদ্রিক সীমান্তের সীমানা নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে মূলত ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ ছিল।
উত্তর কোরিয়া চেয়েছিল সীমানাটি 12 নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত প্রসারিত হোক যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী জাতিসংঘের কমান্ড দৈর্ঘ্য তিন নটিক্যাল মাইল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। উভয় পক্ষ অপরের পক্ষে সামুদ্রিক অঞ্চলে তাদের নিজ নিজ দাবি স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিল না এবং ফলস্বরূপ, সামুদ্রিক সীমানা কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়নি। যাইহোক, 12 নটিক্যাল মাইল প্রসারিত সীমানা রেখার উত্তর কোরিয়ার মূল দাবি উত্তর সীমা রেখার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংজ্ঞা। সীমানা রেখায় ইয়েওনপিয়ং, ডেচেং এবং বেচেং দ্বীপগুলি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। দুই দেশের নৌবাহিনী প্রায়শই সামুদ্রিক সীমান্তে টহল দেয়, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী সীমানা রেখায় মাছ ধরার নৌকাকে এসকর্ট করে। উত্তর কোরিয়া সামুদ্রিক সীমান্তের সংজ্ঞা স্বীকার করে না এবং উত্তর কোরিয়ার উত্তর সীমারেখা নিয়ে ইতিহাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। 1999 সালের ইওনপিয়ংয়ের যুদ্ধের ফলে প্রায় 30 জন লোক মারা গিয়েছিল একটি হিংসাত্মক নৌ সংঘর্ষ যা উত্তর কোরিয়ার নৌকাগুলি সীমান্ত অতিক্রম করার কারণে শুরু হয়েছিল। 2010 সালে উত্তর কোরিয়ার নৌ বাহিনী ইওনপিয়ং-এ বোমাবর্ষণ করে এবং ছোট দ্বীপে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
দুই দেশের সীমান্তে অগণিত ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছে যেখানে সীমান্তের দুপাশ থেকে অসংখ্য বেসামরিক ও সৈন্য নিহত হয়েছে। সম্ভবত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ছিল 1960 এর দশকের শেষের কোরিয়ান ডিএমজেড সংঘাত, যেটি 1966 থেকে 1969 সালের মধ্যে সীমান্তে সশস্ত্র সংঘাত ছিল। সংঘর্ষের সময় উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় 2,400 এরও বেশি এজেন্ট পাঠিয়েছে, যাদের লক্ষ্য ছিল দেশে বিদ্রোহ শুরু করা। এই সংঘর্ষের সময় যে সহিংসতা দেখা গিয়েছে তা কোরিয়ান যুদ্ধের পর থেকে নজিরবিহীন ছিল এবং তাই কখনও কখনও দ্বিতীয় কোরিয়ান যুদ্ধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। সংঘর্ষের পর শতাধিক সেনা নিহত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিহত প্রায় 300 সৈন্যের তুলনায় উত্তর কোরিয়া সর্বাধিক সংখ্যক হতাহত হয়েছে, যেখানে দেশটির প্রায় 400 সৈন্য নিহত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের 43 সৈন্য নিহত হয়েছে। দ্বন্দ্বটি 3রা ডিসেম্বর, 1969-এ শেষ হয়েছিল কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দুই দেশ সীমান্তে গুপ্তচর মিশন থেকে শুরু করে সশস্ত্র হামলা পর্যন্ত অনেক বৈরী কৌশল অবলম্বন করেছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় টানেল খননের অভিযোগ রয়েছে, অসামরিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ধরনের চারটি টানেল আবিষ্কৃত হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে তারা উত্তরের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক সামগ্রী সম্প্রচার করে।
তো এই ছিল দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার সীমানা নিয়ে কিছু তথ্য।।
Featured Post
আমেরিকা কি একটি দেশ? নাকি একটি মহাদেশ? বিস্তারিত জানুন
আমেরিকা: দেশ, মহাদেশ নাকি উভয়ই? ভূমিকা আমেরিকা দেশ না মহাদেশ?—এই প্রশ্নটি ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া ভূগোল-সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর এ...










কোন মন্তব্য নেই :
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন